রক্তের লাল রঙটা সবার শরীরেই এক, অথচ আমরা চামড়ার রঙ আর নামের শেষের পদবি দিয়ে দেয়াল তুলি। কিন্তু যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে কিংবা জীবনের কঠিন কোনো ঝড়ে কেউ খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চায়, তখন সেই বাড়িয়ে দেওয়া হাতটির কোনো পরিচয় থাকে না।সাহায্য কোনো ধর্মের পোশাক পরে আসে না। ক্ষুধার্ত পেটের কাছে রুটিদাতার নামটা জরুরি নয়, জরুরি হলো সেই রুটির ঘ্রাণ। যে হাতটি অন্ধকার রাস্তায় আপনাকে টেনে তুলছে, সেই হাতের কবজিতে তসবিহ নাকি ধাগা বাঁধা—তা দেখার সময় হয়তো আপনার থাকবে না। কারণ, বিপদের মুহূর্তে আমরা মানুষের পরিচয় খুঁজি না, আমরা শুধু মানুষ খুঁজি। জাত-পাত মানুষের তৈরি কৃত্রিম বিভেদ। কিন্তু দয়া, মায়া আর মমতা হলো স্রষ্টার দেওয়া এক অলিখিত ভাষা। একজন মুমূর্ষু রোগীর যখন রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন অন্য ধর্মের মানুষের দেওয়া সেই রক্তবিন্দুগুলো শিরায় শিরায় জীবন বয়ে আনে। সেখানে কোনো বিভাজন থাকে না, থাকে কেবল বেঁচে থাকার আকুতি।পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো আর্তমানবতার সেবা। আর সেই সেবায় যখন কোনো স্বার্থ বা পরিচয়ের মোহ থাকে না, তখনই তা পবিত্র হয়ে ওঠে।
[ picture and caption @Mukto Vabuk. Article - Nrm Fuad , Co founder- Muktovabuk]