Skip to Content

সপ্ন রাঙা সংসার

January 6, 2026 by
সপ্ন রাঙা সংসার
Mukto Vabuk
| No comments yet

#অক্ষরপ্রীতি_পরিবার ×#Mukto_Vabuk

#অনুগল্প

#স্বপ্নরঙা_সংসার 

#মুসলিমা_আক্তার_সুমাইয়া 


রুহানের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে সবে আট মাস। আমি মাহি পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে দিয়েছি এখন বিয়ে হয়েছে আর পড়াশোনা করা লাগবে না যদিও অনার্স কম্পিলিট করেছি। রুহান আর আমার বিয়ে পারিবারিক ভাবে দেখাশোনা করেই হয়েছে ও যেদিন পরিবার নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছিল সেদিনই আমি ওকে প্রথম দেখি দেখতে মাশাআল্লাহ ভালোই। তার সাথে কথা বলার মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলাম সম্মান, সুশীলতা, কেয়ার,আর ওর কথার বলার স্টাইল যাই হোক যেহেতু আমার কোন গুপ্ত ফাপার লাভার ছিল না আর বাবা মায়ের পছন্দ হয়েছিল আর ওদের ও আমাকে পছন্দ হওয়াই আমি সম্মতি দিয়েছিলাম। আর ওর সাথে কথা বলার সময় জানতে পারি ও নাকি আমায় ভার্সিটির সামনে দেখেছিল ওর কাজিন পড়াশোনা করে একই ভার্সিটিতে তবে সে আমার জুনিয়র কোন এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ওকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছিল আমার শাশুমা। আর তারপর কিভাবে সে আমার ঠিকানা পায় আমি জানি না অবশ্য আজকাল ঠিকানা বর করা কোনো ব্যপার না শুধু ইচ্ছে লাগে। রুহান একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করে। তাই কাজের চাপ ও থাকে অনেক। তাই ছুটির দিন ছাড়া আমরা কেউ কাউকে তেমন সময় দিতে পারি না। আজ শুক্রবার বিধায় রুহান আজ বাসাতেই আছে আমি রান্নাঘরে কাজ করছিলাম হঠাৎ রুহান আমায় ডাক দিল মাহি! মাহি! একবার রুমে আসো তো কথা আছে 

লে আমি স্বামীজান আমায় ডেকেছে আর না গিয়ে ঘারতেড়ামো করতে পারি নাকি পড়ে আবার মাইড় একটাও মাটিতে পড়বে না ( যদিও বেডায় মাইড় দেয়া না তবে গাল ফুলে কথা বলা বন্ধ করে দেয় মাঝে মাঝে মনে হয় এই বেডায় পিচ্চি আমি ওনার বয়সি) যাইহোক এখন তো গিয়ে দেখি মহারাজ কোন কাজের কতা বলে হুকুম করেন। রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আমাদের ঘরের দিকে যাব তখন দেখি আমার সম্মানিত বড় জা আমায় দেখে মুখটা কালো তার মুখ এমন করে ঝা*ড়ি মারলো মনে হলো পৃথিবীটা উল্টে দিল আর বলতে লাগলো* দিনেদুপুরে ভি*মরতি আমরা আর নতুন বিয়ে করিনি মনে হয় সারাক্ষণ বরের পিছু পিছু থাকে হুহ্ আমাদের সময় দিনেদুপুরে ঘরে কাজ পর্যন্ত করতে পারতামনা আর এখন ছে*হ ছে*হ 


আমিও বলতে লাগলাম সম্মানিত বড়জা প্রথমত: ভিম*রতি ধরলে কেউ এইভাবে পরিপাটি থাকে না রাস্তায় ঘোড়ে আর 

দ্বিতীয়ত বিয়ে তো মানুষ নতুনই করে পুরাতন বিয়ে আমি করতে দেখিনি 

তৃতীয়ত: আমি বরের পি*ছু পি*ছু থাকবো না তো পরপুরুষের পিছু পিছু নিব নাকি? আমি কোন চরি*ত্রহী*ন মে*য়ে নই যে সেটা করবো আর না অন্য মেয়েকে সু*যো*গ দিব আমার বরের পি*ছু নিতে হুহ


আর চতুর্থত :ঘরের কাজ দিনে করে না তো রাতে করে নাকি তাহলে দিন নাহয়ে ২৪ ঘন্টা রাতই থাকতো হুহ্।


ও আপনাদের বলা হয়নি রুহানেরা দুইভাই। রুহান ছোট আর রুহানের বড় ভাই রিহান। আর আমার বড় জাকে যেগুলো বললাম সেগুলোর কারণ হলো উনি সবসময়ই এমন করে থাকেন আমায় কথা শোনাতে সবসময় চুপ থাকতাম তবে চুপ থাকায় উনি আরো বেশি বেশি কথা শোনানোর পায়তারা করেন তাই আজ এমন করে বললাম 


রুহান: কিলো মাহি তোমার আসতে এত দেরি হলো কেন। কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি। 


মাহি: এই তো এসেছি রান্নাঘরে একটু কাজ করছিলাম তাই দেরি হলো বলো কিজন্য ডাকতেছো। 


রুহান : ওহ। তা শোনো বিয়ের পর থেকে তো তোমার সাথে তেমন সময়ই কাটানো হয় না আমার অফিসের কাজ ও বেড়েছে তাই ভাবলাম আজ তো ছুটির দিন তো তোমায় নিয়ে বিকেলে বের হবো তোমার কোন সমস্যা আছে আমার সাথে যেতে? আর সারাদিন তো বাসায় থেকে তোমারও বিরক্তি আসে সেজন্য একটু ঘুরলে ফ্রেশ ফিল পাবা। 


মাহি: ওকে। তুমি যখন নিয়ে যাবে তখন কোন আপত্তি নেই। তবে মাকে বলতে হবে তুমি যদি বলে পারমিশন নিতে পারো তাহলে কোন সমস্যা নেই।


রুহান : আচ্ছা ঠিক আছে। আমি মায়ের সাথে কথা বলে নিব।আর আলমারি ঔ ওপরের তাকে একটা শপিং ব্যাগ আছে ওখানে তোমার জন্য একটা শাড়ি আছে ওটা পড়ে বের হবা আজ আমার সাথে । এখন যাও তো ফ্রেশ হয়ে নাও আমি মায়ের কাছে যাচ্ছি। 


মাহি: আমি তো মহাখুশি কতদিন পর ঘুরতে যাব তাও আবার আমার স্বামী জানের সাথে উফফ আমার হ্যান্ডু বর আমার চকলেট বর। সব মেয়েদের স্বপ্ন থাকে বিয়ের পর স্বামীর সাথে ঘুরা। আর স্বামী স্ত্রী একসাথে ঘুরতে যাওয়া একটা সুন্নাত। আমি তো খুশিতে বলেই দিলাম তে কিয়েরো জামাই বলেই আমি চমকে উঠলাম এ আমি কি বলে ফেললাম। 


রুহান : কি বললে তুমি আরেকবার বলোতো।

রাহি; ক,,কক কই কি বললাম আমি। আমি তো বললাম ঠিক আছে তুমি মায়ের কাছে যাও।


রুহান : না আমি তো অন্য কিছু শুনলাম সেটা আবার রিপিট করো কুইক নাও। 


মাহি: নাহ আমি তো মায়ের কথাই বললাম। বলেই দিলাম একটা দৌড় তা নাহলে আমার চকলেট বড় আমার থেকে শুনেই ছাড়তো। আর এদিকে রুহান জোরে জোরে হাসতে লাগলো। কাম সারছে এই ছেলে শুনেও না শোনার ভান করছিলো আবার শুনবে বলে।


আমি ঝটপট রেডি হয়ে নিলাম শপিং ব্যাগে দেখি নীল জামদানী শাড়ি ও সাথে ম্যাচিং হিজাব তা দিয়েই রেডি হলাম নইলে বজ্জাত পুরুষ আবার কথা শোনাতে ছাড়বে না রেডি হয়ে শাশুমা মানে ওনার মায়ের কাছে গেলাম গিয়ে দেখি মহারাজাও নীল পান্জাবী পড়েছে হাতে তাহার কালো ঘড়ি চুলগুলো পরিপাটি করেছে পুরাই আগুন হিরো না মানে আমার হিরো। আমি শাশুড়ির কাছে যেতে তিনি বললেন আসো মা ভিতরে আসো। শুনলাম তুমি নাকি আমার কাছে আসতে লজ্জা পাচ্ছো? তা বলি কি মা তোমারা এখন ঘুরাঘুরি করবে নাতো কখন করবে আমার মতো বুড়ী হলে নাকি? তখন তো কোমড় ব্যাথা হাড়ে ব্যাথা এসব শুরু হবে। তারচেয়ে এখনই ঘুরাঘুরি করে নাও আর এমনিতেও তুমি পড়াশোনা করা মেয়ে সারাদিন কলেজ করতে বাহির চিনতে বিয়ের পর তো তুমি কোথাও যাও না তাই এখন যাও ঘুরে আসো। 


মাহি: কিন্তু মা,,,?

শাশুড়ী মা: কোন কিন্তু না এখন যাও ঘুরে আসো আর হ্যা তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট তো ভালোই আছে তোমার যদি কোন শখ থাকে তাহলে তুমি সেটা নিয়ে এগিয়ে যাও আমি তোমার পাশে আছি। ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে হবে না । আর রুহান আমার বৌমার ঠিকঠাক খেয়াল রাখবি বাহিরে নিয়ে যাচ্ছিস কোন অভিযোগ যেন না শুনি আর ও যা যা ভালোবাসে সব খাওয়াবি কোন প্রকার হেলাফেলা আমি কিন্তু মেনে নিব না বলে দিলাম।(ওনাকে বকা দেখে আমি মনে মনে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছি কারণ আমি জানি একটু পর আমাকে নানাভাবে পচাবে এই লোক তাই আগেই একটু হেঁসে নেই) 


মাহি মা এখন আসো দেরি করে যেন ফেরা না হয় বেশি রাত হলে সমস্যা হয় রাস্তায় বদ লোকের তো অভাব নেই। আমি মাকে জরিয়ে ধরলাম আর বললাম আই লাভ ইউ শাশুমা।

 মা: আই লাভ ইউ টু মিস্টি মা। 


চোখ ঘুরিয়ে দেখি আরেক বেডায় জেলাসসাস তাতে আমার কি হুহ্


আমি আর রুহান বের হয়ে একটা রিক্সায় উঠলাম আমায় নিয়ে গেলো নদীর পাড়ে আমার পড়নে নীল শাড়ি আর তার পড়নে পাঞ্জাবী দুজনে একসাথে হাতে ডাব নিয়ে হাঁটছি আর আশেপাশের পরিবেশ দেখছিলাম এমন সময় মহাশয় বললেন আমার মাকে ভালোবাসো অথচ আমায় ভালোবাসো না কেন? 


মাহি: Are you jealous mr. Ruhan?

রুহান: yes. Yes I'm jealous misses ruhan.


মাহি: আপনি জেলাস তাও নিজের মায়ের প্রতি হাউ ফানি।


রুহান : এই একদম হাসবে না আমি সিরিয়াসলি বলছি কিন্তু। 


মাহি: তা জেনে আমি কি করবো আপনি সিরিয়াসলি বলছেন কি বলছেন না।

রুহান: এমন ঘারতেড়া বউ যেন শত্রুর ও না হয় হুম যে বউ স্বামীকে ভালোবাসি বলতে পারে না আবার স্বামীর মাকে বলে আইলাভ ইউ। 

বলেই আমার হাত ঝাড়ি দিয়ে আগে আগে চলে যেতে লাগলো এখন আমার কি হবে আমি তো কিছু চিনি না আর আমার কাছে টাকাও নাই 


মাহি: দারাও দারাও বলছি এভাবে রেখে যাচ্ছো কেন আমিতো হারিয়ে যাবো। আর একবার যদি বাসায় যেতে পারলে মাকে বিচার দিব বলছি 


তবুও সে চলে যাচ্ছে আমার কথা কারনেই নিচ্ছে না এদিকে শাড়ি পরে তো আর দৌড়ানো যায় না মহা বিপদে পড়লাম তো এখন না বললেও সে চোখের আড়াল হয়ে যাবে। আর এতগুলো মানুষের মাঝে নাকি আমায় প্রপোজ করতে হবে শাড়ির কুচি ধরে যতদ্রুত সম্ভব হাটা শুরু করলাম আর তাকে ডাকতে লাগলাম একপর্যায়ে বলেই দিলাম ঠিক আছে আমি আপনার কথাই রাখবো তবুও এভাবে রেখে যান না। শালা বজ্জাত বেডা এইবার কানে শুনলো বজ্জাত বর। 


রুহান: এইবার পথে এসো বাছা তোমায় কি আমি এমনি এমনি এখানে এনেছি সব প্লান করেই এনেছি বাড়িতে তো তোমায় দিয়ে শিকার করাতে পারতাম না সবসময় পালিয়েছো নাহয় মায়ের কথা বলে কেটে দিয়েছো( মনে মনে বলছে আর মিটিমিটি হাসি তার ঠোটের কোণায় লেগে আছে। নাহ্ এভাবে হাসলে হবে না তাতে ধরা পড়ে যাব আগে কাজটা সারি তারপর ধরা খেলেও সমস্যা নাই। বলেই মাহির দিকে যায়)


মাহি: তুমি তো খুব হাড়ে বজ্জাত বর এভাবে কেউ তার বউকে ছেড়ে যায় যদি অন্য কেউ এসে নিয়ে যায় তখন কি হতো।


রুহান : তখন আর কি হতো তার সাথে তোমার বিয়ে দিতাম আর পোলাও বিরিয়ানি খেতাম। কারণ এমন বউ আমি চাইনা যে বউ স্বামীকে ভালোবাসে না। 


মাহি(,,,,,,,,,)চুপ


রুহান : তুমি যদি এখন শিকার করো যে তুমি আমায় ভালোবাসো তাহলে কথা দিতে পারি এই রুহান ছাড়া তোমায় কেউ ধরতেও পারবে না বিয়ে তো দুর 


মাহি: এদিকওদিক তাকিয়ে দেখে তারা বেশ ফাকা জায়গায় এসেছে এখানে মানুষ জন নেই 


রুহান: কিহলো বলো। নাকি আমি চলে যাব। 

মাহি: তুমি ইচ্ছে করে এমন করছো যেন আমি ভয় পেয়ে বলি তাই তো? 

রুহান : আমি ইচ্ছে করে এমন করছি কারণ তুমি যেন তোমার মনের কথা বলতে পারো। এখন ঝটপট বলে ফেলো রাত হয়ে যাচ্ছে একটুর এ জায়গা সেইফ নয়। 


প্লিজ বলো নমনীয় গলায় জানতে চায় 

Do you love me mahi? Plz tell me. I'm desperate to hear i love YOU form Mahi 


মাহি: yes. mr. ruhan I'm love with you a lot... 


সমাপ্ত। 

 


অনু গল্পটা কেমন হয়েছে বলবেন।আর রিয়েক্ট এন্ড কমেন্ট করবেন আপনার রিয়েক্ট আর কমেন্ট না করলে আমি কি করে বুঝবো যে আপনাদের ভালো লেগেছে বলুন তো। আপনারা কেউ রিয়েক্ট ও কমেন্ট করতে চান না কেন বলুন তো আমার লেখা কি খুবই খারাপ যা আপনাদের মন ছুতে পারে না

সপ্ন রাঙা সংসার
Mukto Vabuk January 6, 2026
Share this post
Archive
Sign in to leave a comment