#অক্ষর_প্রীতি x #Mukto_vabuk
#প্রিয়_অষ্টাদশী
#সামিরা_হিমু
#অনুগল্প
— কি চাও পূর্ণ?
— যা চাইবো, তাই দিবেন তো কিয়ান ভাই?
— সাধ্য মতো কিছু চাইলে দিবো তো অবশ্যই।
— তবে, স্মৃতি ভুলিয়ে দিন কিয়ান ভাই।
— পগলের মতো কথা বলছো মেয়ে।
— উহুম! ওটা ভুল, পাগলেরা স্মৃতি ভুলতে চায়না কিয়ান ভাই। পাগলেরা স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই পাগল হয়। আমি সুস্থ মানুষ, তাই ভুলতে চাই।
কিয়ান বই থেকে মুখ তুলে তাকাল। মোটা ফ্রেমের চশমার ভেতর দিয়ে তার চোখ দুটোকে খানিকটা ছোট দেখাচ্ছে। পূর্ণ বসে আছে মোড়ায়। হাতে একগুচ্ছ অপরাজিতা। ফুলগুলো সে ছিঁড়ে আনেনি, বাগান থেকে কুড়িয়ে এনেছে। পূর্ণ গাছ থেকে ফুল ছিঁড়তে পারে না, তার নাকি ফুলদের জন্য কষ্ট হয়।
— তুমি কি ফিলোসফি ঝাড়তে এসেছ পূর্ণ? এখন কাজের সময়। বিরক্ত করো না।
— আপনার কাজ মানে তো ওই কেমিস্ট্রির জটিল ইকুয়েশন মেলানো। ওগুলো মেলানোর জন্য সারাজীবন পড়ে আছে। আমার হাতে সময় কম।
— সময় কম মানে? তুমি কি মঙ্গলে মিশনে যাচ্ছো?
পূর্ণ হাসল। শব্দহীন হাসি। এই মেয়েটার হাসিতে একটা অদ্ভুত বিষাদ লেগে থাকে। গত কিছুদিন ধরে বিষাদের মাত্রাটা বেড়েছে। গায়ের রঙ ফর্সা ছিল, এখন সেটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চোখের নিচে হালকা কালচে দাগ।
— মঙ্গলে না কিয়ান ভাই, তার চেয়েও দূরে।
— বিয়ে ঠিক হলো নাকি?
— হতেও পারে। পাত্রপক্ষ কাল এসেছিল।
— গুড। খাইয়ে দিয়েছে? নাকি তুমি আবার শাড়ি পরে কনে সেজে এসে বলেছ—‘আমার রোজ তিন বেলা খিঁচুনি ওঠে’?
পূর্ণ এবারও হাসল না। হাতের অপরাজিতা ফুলগুলো শাড়ির আঁচলে মুছতে মুছতে বলল,
— না, বলিনি। ওরা আমাকে পছন্দ করেছে। ছেলের সরকারি চাকরি। তবে ছেলের মাথায় চুল কম। আমি রাজি হইনি।
— কেন? টাকমাথা ছেলেদের হৃদয় বড় হয়।
— হোক বড়। আমার হৃদয়টা যে ছোট। ওখানে অন্য কেউ বসে আছে। তাকে সরানো যাচ্ছে না। সমস্যাটা সেখানে।
কিয়ান আবার বইয়ে মনোযোগ দেওয়ার ভান করল। সে জানে পূর্ণ কার কথা বলছে। কিছু কথা না বলাই সুন্দর। কিছু সম্পর্ক বেনামি থাকাই শ্রেয়। পূর্ণর বয়স আঠারো। অষ্টাদশী। এই বয়সে আবেগের লম্ফঝম্ফ বেশি থাকে। কিয়ানের বয়স সাতাশ। তার এখন লম্ফঝম্ফ করার বয়স না, ক্যারিয়ার গড়ার বয়স।
— কিয়ান ভাই!
— আবার কী?
— আপনি যে বলেছিলেন স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে পারেন না, বিজ্ঞান কি বলে? মেমোরি ইরেজ করার কোনো পদ্ধতি নেই?
— আছে। মাথায় জোরে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মারলে সব ভুলে যাবে। অ্যাপ্লাই করবো?
— ইশ! আপনি এত আনরোমান্টিক কেন বলুন তো? রবীন্দ্রনাথ আপনার ভেতরে বিন্দুমাত্র প্রবেশ করেনি?
— রবীন্দ্রনাথ প্রবেশ করেছেন, তবে ইমোশনাল অংশ বাদ দিয়ে। শোনো পূর্ণ, স্মৃতি ভোলা যায় না। মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসে ওগুলো পার্মানেন্টলি স্টোর হয়ে থাকে। ডিলিট বাটন নেই।
— কিন্তু আমি যে ভুলতে চাই। খুব করে চাই।
— কাকে ভুলতে চাও? আমাকে?
পূর্ণ চমকালো না। সে স্থির চোখে তাকাল।
— আপনাকে ভুলবো কেন? আমি নিজেকে ভুলতে চাই। এই যে আমি অষ্টাদশী একটা মেয়ে, আমার আকাশ দেখার কথা, বৃষ্টিতে ভেজার কথা—অথচ আমার শুধু দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি এই জীবনটা ভুলে যেতে চাই।
কিয়ান চশমা খুলে রাখল। পূর্ণর কথার ধরণ আজ অন্যরকম। পাগলামিটা লঘু স্বরে নয়, বেশ গাঢ়।
— তোমার কী হয়েছে পূর্ণ? শরীর খারাপ?
— হুম। জ্বর আসছে রোজ রাতে। মা বলছে টাইফয়েড হতে পারে। ডাক্তার টেস্ট দিয়েছে।
— টেস্ট করিয়েছ?
— করিয়েছি। রিপোর্ট বিকেলে আসবে।
— ভয়ের কিছু নেই। ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। যাও, এখন বাসায় যাও। আমি একটু বেরোব।
— কোথায় যাবেন?
— নীলক্ষেত যাব। বই কিনতে।
— আমাকে নিয়ে যাবেন? আমি একটা নীল শাড়ি কিনব। অপরাজিতা রঙের।
— নীলক্ষেতে বই পাওয়া যায়, শাড়ি না। গাধা মেয়ে।
— ওখান থেকে নিউমার্কেট তো কাছেই। চলুন না কিয়ান ভাই। প্লিজ? শেষবারের মতো?
‘শেষবারের মতো’ কথাটা কানে খট করে বাজল কিয়ানের। তবুও সে পাত্তা দিল না। অল্পবয়সী মেয়েদের কথাবার্তায় অতি-নাটকীয়তা থাকে।
— আচ্ছা চলো। রিকশায় যাবো। হুড ফেলে দিয়ে। রোদ লাগবে, ধুলো লাগবে। তখন কমপ্লেইন করতে পারবে না।
— করবো না। ধুলো লাগা ভালো। মানুষ তো মাটিরই তৈরি।
.....
নিউমার্কেটে প্রচণ্ড ভিড়। কিয়ান হাঁটছে আগে আগে, পূর্ণ তার পেছনে। কিয়ানের হাঁটার গতি দ্রুত। পূর্ণ তাল মেলাতে পারছে না, সে প্রায়ই পিছিয়ে পড়ছে। হাঁপিয়ে উঠছে।
একবার কিয়ান পেছনে ফিরে দেখল পূর্ণ দাঁড়িয়ে আছে একটা থাম ধরে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
— কী হলো? হাঁটতে পারছ না?
— পারছি। একটু দম নিচ্ছি।
— এত সফট হলে চলে? জেনারেশন তো উইক হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। এসো।
কিয়ান হাত বাড়াল না পূর্ণর পানে। সে দূরত্ব বজায় রাখল। কিন্তু পূর্ণর ইচ্ছে করল কিয়ানের হাতটা খপ করে ধরে ফেলতে। এই হাত ধরে সে পুরো পৃথিবী চষে ফেলতে পারে।
শাড়ি কেনা হলো। গাঢ় নীল রঙের সুতি শাড়ি।
— এই শাড়ি কবে পরবে?
— আমার মৃত্যুর দিন।
— আবার আজেবাজে কথা! শোনো পূর্ণ, মৃত্যুর কথা মুখে আনবে না। আমার অপছন্দ।
— মৃত্যু তো অপছন্দ করার বিষয় না কিয়ান ভাই। মৃত্যু হলো সত্যি। পরম সত্যি। বাকি সব মিথ্যা।
কিয়ান বিরক্তি নিয়ে তাকাল।
— আইসক্রিম খাবে?
— খাব। কোনফ্লেক্স দেওয়া।
আইসক্রিম খেতে খেতে তারা টিএসসির মোড়ে এসে বসল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। শহরের আকাশে ধোঁয়াশা আর কমলা রঙের মাখামাখি।
পূর্ণ বলল,
— জানেন কিয়ান ভাই, আমার একটা ইচ্ছে আছে।
— কী ইচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী হওয়ার?
— না। আমার ইচ্ছে, আমি যখন মরে যাবো, তখন আপনি আমার কবরের পাশে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগাবেন।
— তুমি মরে গেলে গাছ লাগিয়ে লাভ কী? তুমি তো দেখবে না।
— আমি দেখবো না, কিন্তু আপনি দেখবেন। বসন্তকালে যখন লাল ফুল ফুটবে, আপনার মনে হবে—ওই যে পূর্ণ হাসছে। লাল শাড়ি পরে হাসছে।
— নীল শাড়ি কিনে লাল শাড়ির স্বপ্ন দেখছ? লজিক মিলছে না।
— আবেগের লজিক লাগে না। কিয়ান ভাই, আমার খুব শীত করছে। বাসায় চলুন।
ফেরার পথে রিকশায় পূর্ণর কাঁপুনি শুরু হলো। জ্বর। শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কিয়ান চিন্তিত হয়ে পড়ল। সে নিজের গায়ের চাদরটা পূর্ণর গায়ে জড়িয়ে দিল।
— জ্বর তো অনেক! ডাক্তার দেখাওনি কেন?
— দেখিয়েছি তো। রিপোর্ট তো আজই আসার কথা।
— কিসের রিপোর্ট?
— ব্লাড ক্যান্সার। লিউকোমিয়া।
কথাটা খুব সহজভাবে বলল পূর্ণ।
যেন বলছে—‘আজ দুপুরে ভাত খাইনি।’
কিয়ান রিকশাচালককে বলল,
— মামা, রিকশা সাইড করো।
রিকশা থামল। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কিয়ান পূর্ণর মুখের দিকে তাকাল। মেয়েটার মুখে কোনো ভয় নেই। একটা অদ্ভুত প্রশান্তি।
— কী বললে তুমি?
— যা শুনেছেন, তাই। অ্যাকিউট লিউকোমিয়া। লাস্ট স্টেজ না হলেও কাছাকাছি। ডাক্তাররা তেমন আশা দেখছেন না।
— তুমি ফাজলামি করছ? এসব নিয়ে কেউ ফাজলামি করে?
— রিপোর্টটা ব্যাগে আছে। দেখবেন?
পূর্ণ ব্যাগ হাতড়াতে গেল। কিয়ান তার হাত চেপে ধরল। কিয়ানের হাত কাঁপছে। যেই হাত কখনো কাঁপে না, কেমিস্ট্রির জটিল কেমিক্যাল নাড়াচাড়া করার সময়ও যা স্থির থাকে, সেই হাত আজ থরথর করে কাঁপছে।
— বাসায় কাউকে বলেছ?
— না। মাকে বললে মা হার্ট অ্যাটাক করবে। বাবাকে বললে বাবা কাঁদবে। আমার কান্না দেখতে ভালো লাগে না। তাই আপনাকে বললাম।
— আমাকে কেন?
— কারণ আপনি কাঁদবেন না। আপনি লজিক্যাল মানুষ। আপনি বুঝবেন যে মানুষ নশ্বর, মৃত্যু স্বাভাবিক। তাই না?
কিয়ান উত্তর দিলো না। তার গলার কাছে কী যেন আটকে আছে। কোনো এক অজানা বাষ্প। সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। শহরের রাস্তায় জ্যাম লেগেছে। শত শত গাড়ির হর্ণ। এই কোলাহলের মাঝেও তার মনে হচ্ছে পৃথিবীটা জনশূন্য। কোথাও কেউ নেই।
...
তারপরের পনেরো দিন কিয়ানের জীবন থেকে মুছে যাওয়া পনেরোটা বছর মনে হলো। পূর্ণ হাসপাতালে ভর্তি হলো। তার কেমোথেরাপি শুরু হলো। যে মেয়েটার মাথায় ঘন কালো চুল ছিল, সেই চুলগুলো ঝরে পড়তে শুরু করল।
কিয়ান প্রতিদিন যায়। কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। ভেতরে ঢুকতে সাহস হয় না।
একদিন পূর্ণই তাকে ডেকে পাঠাল।
— কিয়ান ভাই! বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ভেতরে আসুন।
কিয়ান ঢুকল। পূর্ণর মাথায় একটা নীল স্কার্ফ জড়ানো। সেই নীল শাড়িটার টুকরো দিয়ে বানানো।
— আমাকে এখন খুব বাজে দেখাচ্ছে, তাই না কিয়ান ভাই? এলিয়েনদের মতো?
— তোমাকে অষ্টাদশীর মতোই দেখাচ্ছে। সুন্দরী অষ্টাদশী।
— মিথ্যা বলবেন না। আপনার চোখে আমি সত্যটা দেখতে পাই। আচ্ছা, ওই যে বলেছিলাম—স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে? এখনো কি ভুলিয়ে দেওয়া যায় না?
— আমি চেষ্টা করছি পূর্ণ। বিশ্বাস করো, আমি চেষ্টা করছি যাতে এই দৃশ্যগুলো আমার মনে না থাকে।
— আমার মনে থাকছে কিয়ান ভাই। খুব মনে থাকছে। এই যে আপনি মলিন মুখে বসে আছেন, শার্টের কলারটা কোঁকড়ানো... আমার সব মনে থাকছে। আচ্ছা, মরে গেলে কি এই স্মৃতিগুলো সাথে নিয়ে যাওয়া যাবে?
কিয়ান পূর্ণর হাত ধরল। এই প্রথম। পূর্ণর হাত বরফের মতো ঠাণ্ডা।
— তুমি কোথাও যাচ্ছো না। বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে।
— বিজ্ঞান আয়ু বাড়াতে পারে, ভাগ্য বদলাতে পারে না। আমার সময় শেষ। আমাকে একটা কাজ করে দেবেন?
— কী?
— আমাকে একটা চিঠি লিখে দেবেন?
— কাকে?
— আপনাকে। আমি যা বলবো, আপনি তাই লিখবেন। আমার হাতে শক্তি নেই, কলম ধরতে পারছি না।
কিয়ান কাগজ-কলম বের করল।
— বলো।
পূর্ণ চোখ বন্ধ করল। ফিসফিস করে বলল:
“প্রিয় কিয়ান ভাই,
আপনার কেমিস্ট্রি ল্যাবের সবচেয়ে কঠিন সমীকরণটার নাম জানেন? জীবন। এটা কিছুতেই ব্যালেন্স করা যায় না। একদিকে ভালোবাসা দিলে, অন্যদিকে বিয়োগফল হিসেবে মৃত্যু চলে আসে। আমি আপনাকে ভালোবাসি। এটা বলা হয়নি। অষ্টাদশীরা ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না, তারা শুধু অনুভব করতে পারে। আপনি যখন এই চিঠিটা পড়বেন, তখন হয়তো আমি থাকবো না। তাতে কি? আমি বাতাস হয়ে আপনার জানালার পর্দার নাড়াবো। আমি বৃষ্টি হয়ে আপনার চশমার কাঁচ ঘোলা করে দেবো। আমাকে ভুলতে চাইছিলেন না? এবার ভুলে দেখান তো দেখি! আমি আপনার স্মৃতির হিপ্পোক্যাম্পাসে এমনভাবে গেঁথে রইলাম যে হাতুড়ি পেটালেও আমাকে বের করা যাবে না। ভালো থাকবেন। আর হ্যাঁ, কৃষ্ণচূড়া গাছটা লাগাতে ভুলবেন না।
ইতি,
আপনার প্রিয় অষ্টাদশী”
কিয়ানের লেখা শেষ হলো। খাতার পাতায় দু-এক ফোঁটা জল পড়ল। পূর্ণর চোখ বন্ধ। সে সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছে। অথবা অন্য কিছু। কিয়ান ডাক্তার ডাকল না। সে বুঝতে পারল, পাখি খাঁচা ভেঙে উড়ে গেছে। খুব সন্তর্পণে। কোনো হইচই না করে।
.....
চার মাস পর।
বারান্দায় বসে আছে কিয়ান। আজ প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। আষাঢ় মাসের আকাশ-ভাঙা বৃষ্টি। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। কিন্তু চায়ে চুমুক দেওয়া হচ্ছে না। চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।
পাশের বাগানটায় একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা লাগানো হয়েছে। গাছটা ছোট, কিন্তু এর মধ্যেই কেমন সজীব ভঙ্গি। বাতাসের তোড়ে গাছটা ডানে-বামে দুলছে। মনে হচ্ছে কেউ একজন অদৃশ্য হাতে গাছটাকে নাচাচ্ছে।
কিয়ান একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে গাছটার দিকে। তার কানে এখনো বাজে সেই অবুঝ মেয়েটার কণ্ঠস্বর— "স্মৃতি ভুলিয়ে দিন কিয়ান ভাই।"
কিয়ান মনে মনে বললো,
—“ভুলিয়ে তো দিতে পারলাম না পূর্ণ। বিজ্ঞান সব পারে না। মানুষ তো আসলে স্মৃতির কাছেই সবচেয়ে বেশি অসহায়।”
বৃষ্টি বাড়ছে। ঝমঝম শব্দে পৃথিবী তলিয়ে যাচ্ছে। কিয়ানের চশমার কাঁচটা ঘোলা হয়ে আসছে। এটা কি বৃষ্টির ঝাপটায়, নাকি চোখের জলে—তা বোঝা যাচ্ছে না।
কথায় আছে—পুরুষ মানুষের কান্না দেখাতে নেই। কান্না জমিয়ে রাখতে হয়। জমানো কান্নায় বুকের ভেতরটা পাথর হয়ে যায়। কিয়ানের বুকটাও হয়তো পাথর হয়ে গেছে।
সে গুনগুন করে গাইতে চেষ্টা করল— “বরষার প্রথম দিনে... ঘন কালো মেঘ দেখে...”। গলা দিয়ে সুর বেরুল না।
দূরে কোথাও একটা রেডিওতে গান বাজছে। হয়তো কোনো অষ্টাদশী মেয়ে শুনছে। যার জ্বর আসেনি, যে নীল শাড়ি পরে আকাশ দেখার স্বপ্ন দেখছে। পৃথিবীটা এভাবেই চলে। কিছু গল্প ফুরায়, কিছু স্মৃতি ফুরায় না।
—{সমাপ্ত}—