#নিষিদ্ধ অনুভূতি
#লেখিকা-তানজিনা
(অনুগল্প)
নিস্তব্ধ নিশুতি...........
কোথাও কোনো মানুষ জেগে নেই। ঘুমের রাজ্যের অতল গহীনে হারিয়েছে বহু আগে। কেউ সপ্নে বিভোর কেউবা ক্লান্তিতে বুদ।
ঘুটঘুটে অন্ধকারে মাঝ বয়সী এক পুরুষ ঘামে জপজপে শরীরে নিরলস ভাবে কোদাল হাতে মাটি কেটে যাচ্ছে। তার ঠিক পিছনে হারিকেন হাতে ২৬ বছর বয়সী এক রমনী ভীতু নেত্রে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে কোথাও কোনো মানব-মানবীর অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে কি না।
আচল দিয়ে নিজ মুখ মন্ডল মুছে ভীত স্বরে রমণী সুধায়--
জমিল সকালে মাইনসে যদি বুজে যায় এ কবর নতুন।
মাঠি দেখে তো বুজে ফেলারই কথা। আমার ভয় করতাছে তুমি ওরে কবর দিও না। অন্য কিছু চিন্তা করো।
এই কথায় জমিলের যেনো টনক নড়ে। ঠিক তো.....
নতুন জায়গায় খুড়া কবরের আলগা মাঠি দেখেতো যে কেউ বুজে যাবে এইটা নতুন কবর।
জমিল এইবার ভয় পেতে শুরু করে। মাটি খুঁড়া বাদ দিয়ে ভয় ভয়ে জিজ্ঞেস করে...... রাহিলা এখন তাইলে কি করুম।
রাইলা আবারো অন্ধকার রাতে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নেয় না কারো কোনো অস্তিত্বের টের পাওয়া যাচ্ছে না।
এইবার সে কিছুটা নিশ্চিন্তিত হয় বড় দম ফেলে কিছু একটা ভেবে বলে ওঠে,,
জমিল এর শরীরে ভারী কিছু বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দিলে কেমন হয়???
কথাটা মনে ধরে জমিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাটি খুঁড়া বাদ দিয়ে বস্তা বন্ধি লাশটা নিয়ে যায় তাদের বাড়ির পেচনের পরিত্যাক্ত পুকুরটিতে ফেলতে।
অনেক গুলো ইট বস্তার সাথে বেধে ভারী করে বস্তাটি পরিত্যাক্ত পুকুরটিতে ফেলে দেওয়া হয়।
------------------
জমিল শেখ একটা বেকার বকাটে বিগড়ে যাওয়া শেখ বংশের দ্বিতীয় পুত্র মুন্সী শেখের ছেলে। একটা সময় জমিদারি থাকলেও এখন তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই নাম ডাক ছাড়া।
আসুন পরিচিত হই......
জমীর শেখের বাবা শেখ বংশের উত্তরসূরী ছিলেন।
জমীর শেখরা তিন ভাই ছিলেন। জমীর সবার ছোট।
তার আবার দুই ছেলে মুন্সি শেখ ও মুজাম্মেল শেখ।
মুন্সি শেখের দুই ছেলে করিম শেখ ও জমিল শেখ।
আর মুজাম্মেল শেখের এক ছেলে এক মেয়ে।
মাহতাব শেখ ও মানজিরা শেখ।
মুন্সি শেখ লোক দেখানো ভালো সাজলেও তার আচার-আচরণ লোভী ও স্বার্থপর অন্যদিকে মুজাম্মেল শেখ মানুষটা বরাবরই নরম স্বভাবের আর সৎ।
যে যেমন তাদের সন্তানদের মধ্যেও তেমনি চরিত্র প্রতিফলিত হয়।
পাশাপাশি ঘর হওয়া সত্ত্বে ও দুই পরিবারের মানুষের মন-মানসিকতার বিস্তর পার্থক্য চোখে পড়ার মত।
মুন্সি শেখের দুই ছেলের মধ্যে কোনো মিল নেই আপন ভাই হলেও দুই জনই নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতে ব্যস্ত থাকে সর্বদা। বাপের পৈতিক পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে করে নিজেদের আকাম কুকাম আর জুয়াতে উড়ায়।
অন্যদিকে মুজাম্মেল শেখ মেয়ে মানজিরাকে বিয়ে দিয়েছেন নামকরা এক সম্মানিত পরিবারে। আর ছেলে মাহতাব জব করে ঢাকার একটা ভালো নামকরা
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে।
পারিবারিক ভাবে সচ্ছল, ভালো বেতনের কর্ম ও বিবাহ যোগ্য হওয়ায় মাহতাবকে তার পরিবার থেকে বিয়ে করিয়ে সংসারী করার প্রস্তুতি নেয়।
এলাকার পরিচিত মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে রাহিলকে পছন্দ করে ছেলের জন্য।পারিবারিক ভাবে সম্পূর্ণ হয় তাদের বিয়ে।
-----------------
ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করছে মাহতাব রাহিলা।
মাহতাব চাকুরী জীবনে ব্যস্ত আর রাহিলা সংসার আর বাচ্চা সামলানো তে।
হঠাৎ একদিন খবর এলো মাহতাবের বাবা মুজাম্মেল শেখ মারা গেছেন।
পিত্তি শোকে কাতর মাহতাব পরিবার নিয়ে ছুটে এলেন শেষ বারের মত বাবাকে এটিবার দেখতে।
দাফন-কাফন শেষে কেটে গেলো কিছু দিন এখন পুরোনো গন্তব্যে ফেরার পালা।
মা- নাদিরা বেগমকে সাথে যাওয়া প্রস্তাব দিতে তিনি নাকোচ করেন।
স্বামীর ভিটা বাড়ি ছেড়ে তিনি কোথাও যাবে না। দরকার হলে এখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন।
একা মা-কে এখানে ফেলে যাওয়া মাহতাবের শোভনীয় মনে হলো না তাই রাহিলা আর বাচ্চাদেরও গ্রামে রেখে গেলেন মা-এর দেখাশুনার জন্য। আর জানিয়ে দিলেন বাচ্চাদের স্কুল ট্রান্সফার করিয়ে দিবেন।
দিনগুলো ভালোই যাচ্চিলো।
একদিন বাড়ির কিছু সদাই শেষ হয়ে যাওয়া রাইলা সেগুলো কিনতে বাজারে যাই। বারবার যাতে বের হওয়া না লাগে তাই মাসের বাজার একসাথে করে আনে। কিন্তু এতোগুলো জিনিস গাড়ি থেকে নামিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে তার কষ্ট হচ্ছিলো। যা পাশে হেঁটে যাওয়া জামিলের চোখে পড়ে। সে সাহায্যের হাত
বাড়িয়ে দেয়।
এভাবে জামিল রাহিলার সব কাজে সাহায্য করতে শুরু করে দেয়। মাহতাবদের বাসায় আনাগুনা বাড়তে থাকে জমিল শেখের।
সাংসারিক অনেক কাজেই পুরুষ লোকের প্রয়োজনীয়তা আব্যশক তাই মাহতাবের মা নাদিরা জমিলের আসা যাওয়াকে স্বাভাবিক চোখেই দেখেন।
বেকার মানুষ ভাইয়ের সংসারে সাহায্য সহযোগীতা করছে এগুলো তো ভালো দিক। তাই তিনি কিছু বলেন না। কিন্তু এই না বলাটায় হয়তো অভিশাপ হলো সবার জীবনে।
ইসলামে আছে -"দেবর মৃত্যু সমতুল্য"
কেনো তার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও আছে। তাই দেবরের সামনেও পর্দা ফরজ।
সাহায্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া গল্পের ঘনিষ্টতা গড়িয়েছে অনেক দূর। যেখানে স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার আমানতের পরিপূর্ণ দেখাশোনা ও গচ্ছিত রাখা স্ত্রীর দায়িত্ব কর্তব্য সেখানে রাইলা আজ নির্ধিদায় তা বিলিয়ে যাচ্ছে।
যার কিছু অনুৃমান মাহতাব করতে ও বুজতে পারে।
বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে পরকিয়া বলে যা এখন আমাদের সমাজে ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়ছে। ধ্বংস করছে হাজারো সাজানো-গোছানো সুন্দর সংসার।
রাহিলার ক্ষেএে ও ব্যাতিক্রম ঘটেনি।
নিজের সাজানো সংসার স্বামী সন্তান রেখে মজেছে অন্যের প্রেমে। লিপ্ত হয়েছে পাপাচারে।
মাহতাব তার সন্দেহ কে যাচাই করতে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে আর নিজ স্ত্রী ও চাচাতো ভাইকে দেখতে পাই অপ্রতিকর আবস্থায়।
তখন বাচ্চারা ছিলো বিদ্যালয়ে আর তার মা ছিলো প্রতিবেশিদের বাসায়।
স্ত্রী - ভাইয়ের এই বিশ্বাস ঘাতকতা মেনে নিতে পারে না মাহতাব রাগে দুঃখে অপমানে ত্যেড়ে যায় জমিলের দিকে শুরু হয় হাতাহাতি।
দুজনই সবল পুরুষ কেউ কারো থেকে কম যায় না।
রাহিলা প্রথমে অপরাধবোধ করলেও পরে এগিয়ে যায় নির্লজ্জের মত জমিলকে বাঁচাতে।
যা মাহতাবকে ভেতর থেকে আরো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। কি কমতি ছিলো তার ভালোবাসায় যে অন্য পুরুষকে আপন করে নিতে একবারও ভাবলো না তার সহধর্মীনি
যাকে বিশ্বাস করে একসাথে কাটিছে এতগুলো বছর।
ভাবনায় অন্যমনস্ক হওয়ার সুযোগ নিয়ে জমিল একঘুসিতে মাহতাবকে নিচে ফ্লোরে ফেলে দেয়। আর চেপে বসে তার বুকের ওপর। নিজ হাত দিয়ে চেপে ধরে মাহতাবের হাত যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। নিজেদের অপকর্ম সমাজে জানাজানি হওয়ার ভয়ে সিদ্ধান্ত নেয় মাহতাবকে মেরে ফেলার।
রাইলাকে আদেশ করে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে আসতে। মাহতাব আজ বাক্ হারা। আপনজনেরা বুজি এমন হয়?????
শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া যায় কিন্তু আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতা মানুষের ভিতরের সত্ত্বাটাকে নাড়িয়ে দেয়।
রাইলা বটি নিয়ে আসে প্রথম দিকে কিছুটা ভয় কাজ করলেও অযাচিত অসামাজিক নোংরা সম্পর্কের চুনকালি ঢাকতে নিরহ মানুষটাকে হত্যা করতে পিছুপা হয় না।
জমিল আর রাহিলা নিজেদের হারাম নোংরা সম্পর্ককে বাঁচাতে আজ একজন নিরহ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি হত্যা করেছে তার বিশ্বাস আর ভরসাকে।
অপমানিত করেছে স্বামী -স্ত্রীর সম্পর্ককে।
[ব্যভিচারে কখনো সুখ থাকে না। যেটাকে আপনি সখ মনে করছেন তা নিতান্তই আপানার বোকামি ছাড়া কিছুই না। ব্যভিচারি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে সবচাইতে নিকৃষ্ট প্রাণী।বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর ‘দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার’ গ্রন্থে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلٰى النِّسَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ الْحَمْوُ الْمَوْتُ، ‘মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনছার ছাহাবী জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! স্বামীর ভাইয়ের (দেবর-ভাসুর) ব্যাপারে কি হুকুম? তিনি উত্তর দিলেন, স্বামীর ভাই হচ্ছে মরণের ন্যায়’।[4] স্বামীর ভাইয়ের ব্যাপারে যদি ইসলাম এত কঠোরতা আরোপ করে তাহ’লে অপরিচিত বা সাময়িক পরিচিতদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি হ’তে পারে? নিঃসন্দেহে তা আরো কঠোর হবে।]
⛔কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি জানিনা কিন্তু এটাই আমাদের বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র।
তাই নিজের চরিত্রের হিফাজত করুন পরিবার আর পরিবারের মানুষদের ভালোবাসুন,যত্ন নিন।
মনে রাখবেন সকল বৈধ ও হালালে রয়েছে বরকত, সম্মান আর শান্তি সেটা হোক সম্পর্ক কিংবা কর্ম।
📛ধন্যবাদ🙏🙏🙏