Skip to Content

তেলা ঝিঁঝিঁর বিয়ে বাড়ি

December 31, 2025 by
তেলা ঝিঁঝিঁর বিয়ে বাড়ি
Mukto Vabuk
| No comments yet

#অক্ষরপ্রীতি_পরিবার_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা

#তেলা_ঝিঁঝিঁর_বিয়ে_বাড়ি 

 

#Amayw_Zeenat


গেদূতেলা, বনপুকুরপাড়ের সবচেয়ে চকচকে তেলাপোকা। গায়ে যেন প্রাকৃতিক জ্যোৎস্নার আলো মাখানো, আর হাঁটার ভঙ্গিতে এমন গরিমা যেন পাতার রাজপুত্র নিজেই। তার গা থেকে মাঝে মাঝে একটা সুবাসও বের হয়, যদিও সবাই সন্দেহ করে সেটা সে নিজেই পাতার ফোটা দিয়ে ঘষে।


বনের সব মেয়ে পোকারা ওর দিকে একটু বেশি তাকায়, কিন্তু গেদূতেলার মন পড়ে থাকে একদম অন্যদিকে—ঝিঁঝিমণির কাছে।


ঝিঁঝিমণি, পাতাঝরা বনের প্রান্তে ছোট্ট এক গর্তের বাসিন্দা। তার গলায় এমন সুর, যেন রাতের জোনাকি আলোয় গান গেয়ে ওঠে পাতারা। সে গায়, 


"ঝিঁঝিঁ ঝিঁঝিঁ, বনজুড়ে বাজি,"


আর সেই সুর শোনার জন্য গেদূতেলা প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যাবেলা গাছের গোঁড়ায় এসে বসে।


গেদূতেলা প্রেমে পড়ে গেল। আর এই প্রেমে গাঁটছড়া বাঁধার জন্য সে সিদ্ধান্ত নিল ঝিঁঝিমণিকে বিয়ে করবই করব!


পরদিনই সে ছুটে গেল তার বন্ধু ফড়িংজান-এর কাছে।


ফড়িংজান ভাই, বিয়ে করব আমি! পাতার বন কাঁপিয়ে হবে তেলাপোকা-ঝিঁঝিঁর বিয়ে!


ফড়িংজান একদম সিরিয়াস মুখ করে বলল,

“বিয়ে মানেই বিশাল প্রজেক্ট। প্যান্ডেল বানাবে কে? কেটারিং করবে কে? গান-বাজনা, আলোর ব্যবস্থা, নিমন্ত্রণ... সব আমি একা করব?”


গেদূতেলা কাতর মুখে বলে, 

“তুই আমার বন্ধু না? ঝিঁঝিমণির জন্য আমি নিজের সব তেলও বিক্রি করে দেব!”


ফড়িংজান বলল, “ঠিক আছে, তাহলে প্রথমে চলো ভিমল মাকড়সার কাছে যাই—ওই তো জাল ফেলে মাছ ধরে, সঙ্গে আবার রান্নাবান্নাও জানে!”


ভিমল মাকড়সার বাড়ি গিয়ে দেখা গেল সে তখন একটা জাল শুকোচ্ছে। গেদূতেলাকে দেখে বলে,

“তুই বিয়ে করবি? পাতার তরকারি আর গুড়ি-পোকা ফ্রাই লাগবে তো নিশ্চয়?”


গেদূতেলা মাথা নাড়ল, “আর একটু পাতাঝরা পায়েস হলে ভালো হয়।”


এইদিকে পিঁপড়ে জামাই শুনেই রেগে আগুন।

“এমন বিয়ে! এত গাঁইগুঁই! বাজেট কই?”


তখন মথিমামা হাই তুলে বলে, “শুনেছি বর চকচকে... বউ গান গায়... ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বিয়েতে যাব আমি।”


চিংচিং তুঁই পাখি এসে বলল, “গানের দায়িত্ব আমার! তেলাপোকার বিয়েতে ‘ঝিঁঝিঁ ঝিঁঝিঁ’ সুরে গাইব, কেমন?”


এরপর শুরু হলো জোর প্রস্তুতি।

পাতার তোড়জোড়, ঘাসের ফিতেপরা আলপনা, জোনাকি-আলোয় ভরে উঠলো বনের মাঝখান।


ভিমল মাকড়সা তার ঝুলন্ত রান্নাঘরে পাতার পাতিলে রান্না শুরু করল—

পাতার রোল, ফুলের রসের শরবত, আর গুড়ি-পোকার কাবাব!


চিংচিং তুঁই পাখি ব্যস্ত—

"আমি কিন্তু গান ছাড়া বিয়েতে গাই না! ঝিঁঝিঁর সুরে গাওয়াতে হবে আমাকে!"


পিঁপড়ে জামাই সব কিছুর হিসেব রাখছে একটা বীজের খোলার খাতায়—

"পাতা লাগল তিনশো আটচল্লিশটা, আলো লাগল জোনাকি একুশটা... হুঁহ, বাজেট ফাঁসাবে!"


আর মথিমামা? সে পাতার বিছানায় শুয়ে ঘুমোচ্ছে। মাঝে মাঝে উঠে বলে,

"ঘন্টা তিনেক ঘুমিয়ে নিলেই তো সময়মতো উঠব!"

কেউ তাকে আর জাগায় না—কারণ জাগালে সে বকবক শুরু করে!


ঝিঁঝিমণি নিজেও তো কনে!

ঝিঁঝি মুচির সাজ, সে কথা বলতেই হয়। তার গলা, যে গলা থেকে সুর ঝরে, তার সাথেই তার সাজ ছিল যেন এক স্বপ্নের মতো। তার গলায় পলাশ ফুলের মালা, পেটের মধ্যে গোলাপী পাতার রঙের শিফন শাড়ি, আর পায়ে একটা ছোট্ট সোনালী ঘুংঘু। তবে সোনালী ঘুংঘুর সুরটা ছিল একটু অন্যরকম—ঝিঁঝি গাইলে আসলে ঘুংঘুর সুর বাজে আর তার সাথে বনের পাতারা ডুব দিয়ে যায়!, আর লজ্জায় গুনগুন করছে নিজের গান:


"তেলাতে ভরে মন, ঝিঁঝিঁ বাজে টুনটুন..."


গেদূতেলা meanwhile চেহারার যত্ন নিচ্ছে—

গেদূতেলা তার গা চকচকে করতে করতে এক হাতে তেলাপোকা অলিম্পিক স্টাইলের গাউন পরেছিল—তার শরীরে যেন সূর্যের আলো হয়ে উঠছিল! গেদু আসলে খুব সেলফ-অ্যাওয়ার, তাই বিয়ে করার আগে নিজেকে এত সুন্দর বানিয়ে নিয়ে গেছে যে, সবাই তাকে দেখে ভাবছিল, “এই তেলাপোকা কি সত্যিই এত চকচকে?!”


তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, গেদূতেলার মুখের ভঙ্গি। বিয়ে হবে—এমনটা জানলেও সে নিজের বারোটা বাজিয়ে ফেলে, কারণ গেদু প্যানিক আক্রমণ করতে শুরু করে, 

“কেমন লাগছে? পেটে কি একটু বেশি তেল? তেল অনেকটা চটচটে তো লাগছে না?”


সাথে সাথে ফড়িংজান এসে বলে, “আরে তোর পেটের তেল কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু বিয়েতে গান গাওয়ার জন্য চিংচিং তুঁই পাখি তো একদম প্রস্তুত!”


অথচ পুরো বনের পোকামাকড়দের এখন খুশি হওয়া উচিত ছিল—হাসি-ঠাট্টা, পণ্ডিত সুরে গান, মিষ্টি খাবার। কিন্তু গেদূতেলা, ঝিঁঝি মুচি, ফড়িংজান আর বাকি বন্ধুরা হাসি-ঠাট্টায় এমনভাবে মেতে ছিল, যা বনের কোনও বিয়েতে ঘটেনি আগে। গেদূতেলা বাচ্চাদের মতো পায়ের নাচ শুরু করে দেয়, 


আর ঝিঁঝি মুচি গায় "ঝিঁঝিঁ ঝিঁঝিঁ, বনজুড়ে বাজি"


সে গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিংচিং তুঁই পাখি বিয়ের পোকা-পোকা গান গাইতে থাকে।


এদিকে, মথিমামা তো বিয়ের দাওয়াত পেয়েও ঘুমিয়ে পড়েছিল। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে মজা করার জন্য গর্জন করে বলে, "ভালো তো লাগছে, তবে জামাই তো ঝলমলে—মাথায় মালি লাগাও, দাদু!" তারপর আবার লম্বা একটা খিঁচিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ।


আর সবাই হাসতে হাসতে বলে, "মথিমামার বিয়ের কথা তো কখনোই ভাবা যাবে না!"


অবশেষে বিয়ে হয়ে গেল। গেদু আর ঝিঁঝি মুচি তাদের একে অপরকে ফুলের মালা পরাল। আর এরপর... বিয়ে ছিল শুধু বনের আলোচনার বিষয়।


পিঁপড়ে জামাইও একে একে বেরিয়ে চলে এলেন, যার মনে ছিল শুধু একটাই চিন্তা—"বাজেট তো একদম শেষ, তবে এই বিয়ে নিয়ে যা কিছু মজা হবে!"


                  " সমাপ্ত "

তেলা ঝিঁঝিঁর বিয়ে বাড়ি
Mukto Vabuk December 31, 2025
Share this post
Archive
Sign in to leave a comment